সম্মিলিত উদ্যোগে জমি কিনে ভবন নির্মাণ, থাকছে নিজ নামে মালিকানার সুযোগ
# সম্মিলিত উদ্যোগে জমি কিনে ভবন নির্মাণ, থাকছে নিজ নামে মালিকানার সুযোগ
**নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:** নিজেদের অর্থায়নে জমি কিনে সম্মিলিতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের একটি নতুন উদ্যোগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১০, ২০ অথবা সর্বোচ্চ ৩০ জন সদস্য নিয়ে গড়ে তোলা এ প্রকল্পে প্রত্যেক সদস্যের অংশ অনুযায়ী জমি নিজ নিজ নামে রেজিস্ট্রেশনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির উদ্যোক্তা **বেলাল হোসেন ইবরাহীম**, প্রোপ্রাইটর, **মুহাম্মাদী ট্রাভেল এজেন্সি বাংলাদেশ** এবং আয়কর আইনজীবী, ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন। যোগাযোগ নম্বর: **০১৯১০৩০০৪০০**।
উদ্যোক্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সদস্যদের সম্মতিতে উপযুক্ত জমি নির্বাচন করা হবে। জমি কেনার আগে খতিয়ান, দাগ, নামজারি, খাজনা, পর্চা, মামলা-মোকদ্দমাসহ সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় যাচাই-বাছাই করা হবে।
প্রকল্পটির বিশেষ দিক হলো, কোনো একক ব্যক্তি বা ডেভেলপারের নামে পুরো জমি রেজিস্ট্রি না করে প্রত্যেক সদস্যের নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী জমি সরাসরি নিজ নিজ নামে রেজিস্ট্রেশন করার পরিকল্পনা। ফলে শুরু থেকেই সদস্যরা তাদের নিজস্ব অংশের জমির মালিক থাকবেন।
জমি ক্রয়ের পর প্রয়োজন অনুযায়ী জমি ভরাট, মাটি পরীক্ষা, ভবনের নকশা প্রণয়ন ও অনুমোদন এবং পর্যায়ক্রমে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। নির্মাণকাজের ব্যয় সদস্যদের কাছ থেকে একবারে নেওয়ার পরিবর্তে কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনায় ফাউন্ডেশন, কলাম ও স্ট্রাকচার, ছাদ, ইটের কাজ, প্লাস্টার, দরজা-জানালা, ইলেকট্রিক ও প্লাম্বিং, টাইলস ও ফিনিশিং, লিফটসহ অন্যান্য কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জমির মূল্যসহ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় প্রতি বর্গফুট **৩,২০০ টাকা ±** ধরে প্রাথমিক হিসাব করা যেতে পারে। তবে জমির মূল্য, নির্মাণসামগ্রীর বাজারদর, ভবনের নকশা, অনুমোদন, লিফট, ইউটিলিটি, ফিনিশিং ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ওপর প্রকৃত ব্যয় কম-বেশি হতে পারে।
প্রকল্প পরিচালনার জন্য জমি রেজিস্ট্রেশনের পর সদস্যদের সম্মতিক্রমে একটি পরিচালনা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। কমিটি জমি ভরাট, নকশা ও অনুমোদন, প্রকৌশলী-স্থপতি ও ঠিকাদার নির্বাচন, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং আর্থিক হিসাব সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সদস্যদের জমা দেওয়া অর্থ, নির্মাণ ব্যয় এবং অবশিষ্ট অর্থের হিসাব সংরক্ষণ করা হবে। প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন যথাসম্ভব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবন নির্মাণ শেষে প্রত্যেক সদস্যের জমির অংশ ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ফ্ল্যাট বণ্টন করা হবে। একই আকার ও শ্রেণির একাধিক ফ্ল্যাট থাকলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাট বণ্টনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে অর্থ প্রদানকারী এবং বিলম্বে অর্থ প্রদানকারী সদস্যদের জন্য ফ্ল্যাট নির্বাচনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বা অন্যান্য নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা সকল সদস্যের পূর্বসম্মতি ও লিখিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই কার্যকর হবে।
উদ্যোক্তার পরিকল্পনার মূল দর্শন—**“নিজেদের জমি, নিজেদের অর্থায়ন, নিজেদের সিদ্ধান্ত এবং নিজেদের জন্য ভবন।”**
এ উদ্যোগে কোনো ডেভেলপারকে জমি দিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সদস্যরা নিজেরাই জমির মালিক থাকবেন এবং সম্মিলিতভাবে ভবন নির্মাণ করবেন। এতে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, স্বচ্ছতা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তা।
প্রকল্প শুরুর আগে সকল সদস্যের মধ্যে লিখিত চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জমির অংশ, অর্থ প্রদানের নিয়ম, নির্মাণ ব্যয়, কিস্তির সময়সূচি, বিলম্বে অর্থ প্রদান, সদস্য পরিবর্তন বা অংশ বিক্রয়, ফ্ল্যাট বণ্টন, লটারি পদ্ধতি, পরিচালনা কমিটির ক্ষমতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।
উদ্যোক্তার মতে, আইনগত যাচাই, স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সঠিক পরিকল্পনা এবং সকল সদস্যের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ নিজস্ব জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা অর্জনে আগ্রহীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় মডেল হতে পারে।
**Today Dhaka News**